Slow and steady wins the race
স্লো এন্ড স্টেডি উইন দা রেইস।
#ছোটোবেলায় বহুবার খরগোশ ও কচ্ছপের গল্পটা পড়ে পড়ে পরীক্ষার খাতায় লিখে পরের ক্লাসে উন্নীত হয়েছি। আবার শিক্ষক হয়ে চৌত্রিশ বছর ধরে গল্পটা কতবার যে শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছি এবং এখনো পড়াচ্ছি তার হিসেব করা সম্ভব নয়। তবে গল্পটা পড়া এবং পড়ানো এখানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও নয়। গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো গল্পটার অন্তর্নিহিত শিক্ষা আমরা কতটুকু অর্জন করেছি এবং শিক্ষক হিসাবে কতজন শিক্ষর্থীর ভেতরে এর মূলভাব জাগ্রত করতে পেরেছি!!!
#ঈশপের এ গল্পে বুঝানো হয়েছে ব্যাপক সক্ষমতা থাকলেও অহঙ্কার ও অলসতার কারণে সময়কে অবহেলা করায় জীবনে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থতা নেমে আসে। অপরপক্ষে দৃঢ মনোবল, ধৈর্য ও পরিকল্পনা নিয়ে ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে চললে সফলতা নিশ্চিত।
#আমরা খেয়াল করলে দেখতে পাই কোনো সেনাদল ফ্রন্ট লাইনে প্রতিপক্ষকে ধূলিস্যাৎ করে বিজয়োল্লাসে বীরদর্পে যখন এগিয়ে গেছে তখনই প্রতিপক্ষের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ ঘটে বিজয়কে বিষাদে পরিণত করেছে। পক্ষান্তরে ফাঁকা মাঠ পেয়েও ধীর পদক্ষেপে মাইন ডিটেক্টর ব্যবহার ও প্রতিপক্ষের গুপ্ত আক্রমণ বিবেচনায় রেখে প্রতি ইঞ্চি এগিয়ে গিয়ে অল্প হলেও স্থায়ী সফলতা এনেছে।
#সনাতনী ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ২০২৩ সালের ১০অক্টোবর ক্ষুদ্র আকারে আত্মপ্রকাশ করে দীর্ঘ দুই বছরে সামান্যই অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে যতটুকু অর্জন করেছে তা আর নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নিরানব্বই ভাগ কম। একভাগ নিশ্চয়তা এজন্যই দিচ্ছিনা যে, বিশ্বে ঈশ্বর ছাড়া কোনো কিছুই পূর্ণাঙ্গ নয়। এছাড়া শতভাগ নিশ্চয়তা সেই গল্পের খরগোশের মতই অহঙ্কার ও অলসতা ডেকে আনতে পারে।
# ফাউন্ডেশনের সফলতা গুলো আমরা ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করতে পারি:
#প্রথমতঃ সংগঠনটি দেশে এবং দেশের বাইরের অল্প কিছু মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পেরেছে যে, বাংলাদেশেও সততা, পারস্পরিক বিশ্বাস, আনুগত্য, ধৈর্য, পরিকল্পনা ও নিরলস পরিশ্রম করে কোনো ভালো কাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ফাউন্ডেশনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আগ্রহ বেড়েই চলেছে।
#দ্বিতীয়ত: দেশের প্রতিটি জেলায় অন্ততঃ একশো জন লোককে কমবেশি জানান দিতে পেরেছে। এখন জেলা ভিত্তিক দশ জন লোকও যদি সার্বিক সহযোগিতা অব্যহত রাখেন তো জনকল্যাণে এই ফাউন্ডেশন সত্যিই মাইলফলক স্পর্শ করবে।
#তৃতীয়ত: যে জায়গাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি জন্ম নিয়েছিলো সেখানে প্রথম শিক্ষা প্রকল্পের ভিত্তি হিসাবে "এসডিএফ বিদ্যানিকেতন" নামে একটা বিদ্যালয় চালু করতে সক্ষম হয়েছে। উক্ত বিদ্যলয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেনি পর্যন্ত কিছু শিক্ষার্থী দেশে প্রচলিত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃত বর্ণ পরিচয়, ভাষাচর্চা ও নিজস্ব ধর্মীয় বিষয় সম্পর্কে বয়স উপযোগী শিক্ষা অর্জন করছে। আশা করা যায় নিজস্ব ধর্ম, সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য সহ অপরাপর বিষয়ে তুলনামূলক জ্ঞান অর্জন করে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাএখান থেকে বের হয়ে নতুন প্রজন্মকে দৃঢ ভিত্তির উপর দ্বার করাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
একই সাথে রংপুর জেলার পীরগন্জ উপজেলায় অনুরূপ আরেকটা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাবু মিলন মোহন্ত নামে একজন দানশীল সমাজ হিতৈষী ব্যক্তি বেশকিছু পৈতৃক সম্পত্তি দান করে সেখানে বিদ্যালয়টি প্রতিঢ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এভাবেই সমাজের বহু লোকই পর্যায়ক্রমে সংগঠনটির মাধ্যমে সমাজের কল্যানে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করা যায়।
#চতুর্থত: সংগঠনটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা BTRC এর অনুমোদিত একটা সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট চালু করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আধুনিক উন্মুক্ত তথ্যপ্রযুক্তির যুগে একটা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হলো ভার্চুয়াল তথ্য ভাণ্ডার। সারা বিশ্বের মানুষ সহজেই এই তথ্য জানতে, জানাতে এবং প্রয়োজনীয় অংশ সংগ্রহ করতে পারেন। একই সাথে সংগঠন সম্পর্কে অবগত হয়ে সংশ্লিষ্টতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন। ইউরোপ সহ বহির্বিশ্বে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিটর ব্যাপক লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
#পঞ্চমত: সংগঠনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রেজিস্টার অফ 'জয়েন্ট স্টক অফ কোম্পানিজ' কর্তৃক অনুমোদন প্রাপ্ত হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে সংগঠনটি দেশব্যাপী সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে সরকারের সহযোগী হিসাবে কাজ করার আইনী ভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এখন NBR কর্তৃক সার্টিফাইড হয়ে ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত যথাযথ সনদ গ্রহণ করে সকল বিষয়ে এমন পজেশন করতে সচেষ্ট যেনো এক বিন্দুও অনিয়মের বেড়াজালে পড়তে হয়। একটা স্বচ্ছ, জবাবদিহি মুলুক শক্তিশালী সমাজকল্যাণ সংগঠন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
# উপরোক্ত সফলতা গুলো ধিরে ধিরে অর্জন করেছে যা কচ্ছপ গতিই বলা যায়। এই গতি এতো ধীর হওয়ার কারণ হলো মানুষের ভালো ও টেকসই কাজের প্রতি অবিশ্বাস, অনীহা এবং সহযোগিতায় কার্পণ্য। সমাজের মানুষ সামাজিক উন্নতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তি চান। কিন্তু অধিকাংশই সহযোগিতা করতে চান না, দায়িত্ব নিতে চান না। কেউ কাজ করলে উৎসাহ তো দূরের কথা নিরুৎসাহিত করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। আমরা সমাজের মানুষ বিভিন্ন ভাবে প্রচুর অর্থ অপচয় করি কিন্তু ভালোকাজে এক টাকা সহযোগিতা করতেও কার্পন্য, সন্দেহ এবং অবহেলা দেখা যায়। তারপরও আশা করা যায় সনাতনী ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন কচ্ছপ গতি ত্বরান্বিত করার পথেই হাঁটছে। খরগোশ জেগে ওঠে বিরোধী মনোভাবে প্রতিযোগিতা না করে কচ্ছপের সাথে বন্ধুত্ব করে উন্নয়নের মেরাথন দৌড় শুরু করবে বলে দৃঢ আশাবাদী। আসুন, সকলে মিলেই সকলকে গড়ি, এক এক করে সবাই হয়ে উঠি "আমরা।" জয়তু সনাতনী ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।
স্বপন কুমার
সিনিয়র শিক্ষক
বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ
ও
উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য
সনাতনী ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।
১৫/২/২০২৬, বগুড়া।