ওঁ তৎ সৎ

প্রিয় সুহৃদ,

স্বশ্রদ্ধ প্রণতি  গ্রহণ করবেন। আশা করি সকলে ভাল আছেন। আজ সনাতনী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। যে ফাউন্ডেশন ১০ অক্টোবর ২০২৩ সালে কিছু সংখ্যক দৃঢ়চেতা, সৎ, কর্তব্যনিষ্ঠ, সমাজের নিকট দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করেছিল। যাঁরা বাংলাদেশের ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু সনাতনী সমাজকে পিতৃপুরুষের ভিটায় সম্মান ও গৌরবের সাথে  জীবন যাপনের দিশা প্রদানের অগ্রদূত হিসেবে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

নানা সমস্যায় জর্জরিত সনাতনী সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হলে প্রয়োজন যথাযথ ধর্মীয় শিক্ষা।আবার শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আমাদের প্রয়োজন আধুনিক শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়। যা আমাদের প্রাচীন গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থায় ছিল। সেই প্রাচীন গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার পুনঃ প্রবর্তন করতে যাচ্ছে সনাতনী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। যার যাত্রা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলায়। এই সনাতনী শিক্ষালয়টির নাম দেওয়া হয়েছে " সনাতনী জ্ঞানতীর্থ "।যা সনাতনীদের একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে এবং আমরা অবশ্যই আশাবাদী, যে এই ধরনের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের কেন্দ্র সহ প্রতিটি প্রান্তে গড়ে উঠবে।

 

বর্তমানে এসডিএফ একটি ছোট্ট  চারা গাছঃ

আজ দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে এসডিএফ একটি ছোট্ট চারা গাছ। যা অমিত সম্ভাবনার ভান্ডার হতে পারে। আমরা যদি এই চারা গাছকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারি, চারা গাছটি যদি সুবিশাল বৃক্ষে পরিণত হতে পারে, তবে এর শাখা প্রশাখা অচিরেই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।যার ফুলের সুবাস সকল মানব সমাজকে মোহিত করবে এবং যার ফল আমাদের সবাইকে পুষ্টতা দান করবে বলে আমার বিশ্বাস।

 

সনাতনীদের উন্নয়নের ভিত্তিঃ

এই ভূখন্ডে কোন একসময় আমরা শতভাগ ছিলাম। যা আজ  সাত ভাগের আশেপাশে। আমরা যে সঠিক পথে নেই, ভুল পথে আছি,তা বোঝার জন্য অন্য কোন পরিসংখ্যান প্রয়োজন নেই।

আমাদের নেই কোন হাসপাতাল, নেই কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নেই কোন কর্মসংস্থান  সৃষ্টির প্রকল্প,নেই কোন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আছে শুধু বর্ণবৈষম্য মতভেদ দল উপদলে বিভক্তি। এই সকল সমস্যাগুলি থেকে উত্তরণের জন্য গঠিত হয়েছে সনাতনী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (SDF)।যা সনাতনীদের উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে।

 

আসুন সংকীর্ণতা পরিহার করিঃ

প্রাচীন গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থা পরাবিদ্যা ও অপরাবিদ্যা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।পরাবিদ্যা হল পারমার্থিক বিদ্যা আর অপরাবিদ্যা হল জাগতিক সমস্যা সমাধানের জন্য। কালক্রমে আমরা সেই  গুরুকুল  শিক্ষাব্যবস্থাকে হারিয়ে, শুধুমাত্র ব্যক্তি কেন্দ্রিক পরাবিদ্যার দিকে ঝুঁকে পড়েছি। কিভাবে নিজে বৈকুন্ঠ লাভ করতে পারব সেই আকাঙ্ক্ষায় আমরা বিভোর। নিজ নিজ পারমার্থিক উন্নতি করে সবাই  বৈকুন্ঠ ধাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করব। আর বাপ-দাদার ভিটা মাটি খালি ফেলে রাখবো, যা এক সময় অন্য কেউ এসে দখল করে নিবে, এই হল আমাদের বর্তমান অবস্থা।

আসুন আমরা এই আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা পরিহার করে সামষ্টিক চিন্তা করি। মৃত্যু পরবর্তী বৈকুণ্ঠ ধাম প্রাপ্তি যেমন আমাদের সকলের কাম্য, তেমনি বাপ দাদার ভিটায় যেন আমাদের উত্তরসূরীরা অনন্তকাল জীবন যাপন করতে পারে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা-ভাবনা করি।

 

বাসযোগ্য আবাস গড়ে তুলিঃ

নিজেদের দুর্বলতার জন্য আমরা যদি আমাদের আবাস ভূমি হারাই,তার দায় আমাদের। আসুন আমরা হীনমন্যতা পরিহার করি ইতিবাচক চিন্তা লালন করি। সমাজের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই এসডিএফ কে শক্তিশালী করি। গুরুকুলের আদলে আধুনিক শিক্ষালয় গড়তে সামান্য হলেও অবদান রাখি। যা আমাদের অনাগত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিবে আধুনিক ও ধর্মীয় সমন্বিত যুগোপযোগী শিক্ষা। যে শিক্ষা বদলে দিতে পারে আমাদের ক্ষয়িষ্ণু সনাতনী সমাজকে।যেখানে থাকবে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান অনাথ ও দুঃস্থ জনগোষ্ঠীর জন্য থাকবে যথাযথ পুনর্বাসন ব্যবস্থা।থাকবে নিজেদের কর্মসংস্থানের জন্য উৎপাদন মূখী শিল্প প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক নিরাপত্তার জন্য  আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

 

অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতাঃ

এসডিএফ এর পথচলা শুরু হয়েছে দুই বছর হল। এই দুই বছরে প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা ছাড়াও প্রায় দুই হাজারের অধিক সতীর্থ সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়েছেন। অনেকেই অর্থ, শ্রম, মেধা দিয়ে সংগঠনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আজকের এই বিশেষ দিনে  সংগঠনের সাথে যুক্ত সকল পর্যায়ের কর্মী, দাঁতা, সতীর্থ সহ সকল শুভানুধ্যায়ী ও বাংলাদেশে বসবাসরত সকল সনাতনীদের জানাই অনেক অনেক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।সবার নিকট বিনীত অনুরোধ আমরা প্রত্যেকেই যেন এসডিএফ-এর জন্য আমাদের  সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করি।

 

আশা নয় বিশ্বাস এসডিএফ একদিন বাংলাদেশের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

 

শুভেচ্ছান্তে

জীবনানন্দ রায়

সতীর্থ

সনাতনী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।